আজ ফিলিস্তিনিদের সমর্থন স্পেনের পক্ষে

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার অনুষ্ঠেয় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন উন্মাদনা তুঙ্গে, তেমনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা। তবে গাজার সিংহভাগ ফিলিস্তিনি সমর্থক এবার স্পেনের পক্ষে কোমর বেঁধে নেমেছেন। তাদের এই একচেটিয়া সমর্থনের মূল কারণ ফুটবলীয় নান্দনিকতা ছাড়িয়ে বিশুদ্ধ রাজনৈতিক ও মানবিক। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি স্প্যানিশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান এবং বিশ্বমঞ্চে সংহতি প্রকাশই গাজাবাসীকে স্পেনের পাড় ভক্তে পরিণত করেছে।

৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক আহমেদ আল-বোজম স্পেনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, “আমি মনে-প্রাণে স্পেনের জয় চাই। কারণ তারা এই দুঃসময়ে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গাজার কোটি মানুষের হৃদয়ে এই স্প্যানিশ প্রীতি জাগ্রত হওয়ার পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কর্তৃক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান। এ ছাড়া স্পেনের তরুণ ফুটবল সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলার মতো বৈশ্বিক ক্রীড়াবিদদের প্রকাশ্য সংহতি ফিলিস্তিনিদের গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। লা লিগা জয়ের পর বার্সেলোনার উন্মুক্ত বাস শোভাযাত্রায় ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি গাজাবাসী এখনও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। আল-বোজমের প্রত্যাশা, ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে স্পেন ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বমঞ্চেও ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবে।

বিজ্ঞাপন
banner

তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি বর্বর হামলার কারণে গাজায় বসে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো উপভোগ করা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল-আফিফি জানান, জ্বালানি সংকট ও অতিরিক্ত মূল্যের কারণে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ খেলা দেখতে পারছে না। এই প্রতিকূলতার মাঝেই যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলে ক্রীড়াবোধ বাঁচিয়ে রাখতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে (গাজার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব) বিশ্বকাপ অনুকরণে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতীকী দলের মধ্যে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়, যেখানে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। গাজার পঙ্গু ফুটবল দল ‘গাজা আল-ইরাদা’-এর প্রধান কোচ হাতেম আল-মাগরিবি বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়রা যুদ্ধে হাত-পা হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের শক্তি হারাননি।”

আদনান আল-আফিফি আক্ষেপ করে জানান, গত ২৫ বছরে দক্ষিণের রাফাহ থেকে উত্তরের বেইত হানুন পর্যন্ত গাজার যে বড় বড় স্টেডিয়ামে তারা খেলেছেন, তার অনেকগুলোই এখন ধ্বংসস্তূপ অথবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ছোট আকারের ‘ফাইভ-আ-সাইড’ মাঠেই ফুটবল সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে স্পেনের প্রতি গভীর আবেগ থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই গাজাবাসীর। যদিও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেয়ের কট্টর ইসরায়েল-পন্থী অবস্থান ফিলিস্তিনিদের ক্ষুব্ধ করেছে, তবুও লিওনেল মেসির ফুটবলীয় জাদুকে তারা শ্রদ্ধা করেন। গাজার এই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম মানবিক সংকটের আবহে ফুটবল অন্তত ৯০ মিনিটের জন্য হলেও মানুষকে বোমাবর্ষণের নির্মম বাস্তবতা ভুলে থাকার রসদ জোগাচ্ছে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে গাজার বিভিন্ন স্থানে ফাইনাল ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে আপামর ফিলিস্তিনিরা স্পেনের ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222