৩৬নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউ মার্কেটের একটি গার্মেন্টসের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে দোকানটিতে থাকা প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘রাজশাহী স্টোর’ নামের একটি বড় গার্মেন্টসের দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কাপড়ে আগুন লেগে যায়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় একে একে ফায়ার সার্ভিসের মোট ছয়টি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। ফায়ার ফাইটারদের টানা প্রায় দুই ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা পুলিশ ও স্কাউট সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি উৎসুক জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। ঘটনার পর পরই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী স্টোরের মালিক সফিকুল ইসলাম জানান, আগুনে তার দোকানে থাকা নগদ অর্থসহ প্রায় আড়াই কোটি টাকার তৈরি পোশাক ও অন্যান্য মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে তিনি ব্যবসায়িকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটি সশরীরে পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই বিপদের মূহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে চেম্বার অব কমার্স। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা হবে।
টিএইচএ/
