তৃতীয় বিয়ে নিয়ে চলমান তুমুল বিতর্কের মাঝেই নতুন করে বড় বিপাকে পড়েছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই এবার কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হুমকিসূচক পোস্ট ও ভয়েস নোট ঘিরে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে মুম্বাই পুলিশ এবং আমিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আরজু বিষ্ণোই’ ও ‘টাইসন বিষ্ণোই’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে আমির খানকে উদ্দেশ্য করে এই হুমকির পোস্টগুলো করা হয়েছে। ওই সব পোস্টে হুমকিদাতারা নিজেদের লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী বলে দাবি করেছেন। আমির খানের একাধিক আন্তঃধর্মীয় বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে এবং তাঁকে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’কে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয় হুমকিদাতারা। শুধু আমির খানই নন, ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে—যারা এ ধরনের আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক বা বিয়েকে সমর্থন করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও বিষ্ণোই গ্যাং নিজেদের মতো করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং তারকাখ্যাতির আড়ালে থাকা এসবের সমর্থকদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসে গৌরীকে বিয়ে করেন ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতা। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে উগ্রপন্থীদের সমালোচনার জবাবে আমির খান স্পষ্ট করে জানান, তাঁর নতুন স্ত্রী গৌরী হিন্দু নন, তিনি একজন খ্রিস্টান। তাঁর আগের দুই স্ত্রী হিন্দু হলেও কাউকেই তিনি কখনো ধর্ম পরিবর্তনের কথা বলেননি। আমির আরও জোর দিয়ে জানান, কোনো ‘জিহাদ’ নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। আর এ কারণেই নিজের মেয়ে যখন ভালোবেসে এক হিন্দু তরুণকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাতে তিনি কোনো বাধা দেননি; বরং ধুমধাম করে জমকালো আয়োজনে মেয়ের পছন্দের ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, “আমার পরিবারে ধর্মের চেয়ে ভালোবাসার মূল্যই সব সময় বেশি।”
তবে আমিরের এই উদার ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি, উল্টো লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে আসা এই হুমকি এখন বলিউডজুড়ে নতুন করে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে অভিনেতা সালমান খানকেও এই গ্যাংটি একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তবে আমিরের ক্ষেত্রে আসা হুমকির দাবিগুলোর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের বিশেষ শাখা।
টিএইচএ/
