আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে গ্যালারিতে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই হাই-প্রোফাইল আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মার্কিন ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল এই নিরাপত্তা কার্যক্রমে আকাশপথ পাহারায় নামানো হয়েছে বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট। পাশাপাশি স্টেডিয়াম ও এর সংলগ্ন রুফটপগুলোতে মোতায়েন থাকছেন সামরিক বাহিনীতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত চৌকস স্নাইপার এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিসের হাজার হাজার এলিট এজেন্ট।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বারবার্তায় জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শকদের কিছুটা বাড়তি সময় ও তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়াতে ম্যাচ শুরুর অন্তত চার ঘণ্টা আগেই সবাইকে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচটিকে ‘লেভেল-১’ ক্যাটাগরির বিশেষ জাতীয় নিরাপত্তা ইভেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে সংবেদনশীল স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশাল নিরাপত্তা অভিযানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, এই মেগা ম্যাচের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ কিংবা নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রোটোকলের সমতুল্য। নিউ জার্সি স্টেট পুলিশকে সহায়তার জন্য অগণিত ফেডারেল সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আমেরিকানদের জনপ্রিয় আয়োজন ‘সুপার বোল’-এর চেয়েও বহুগুণ বড় এবং জটিল অপারেশন।
টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে এক বন্দুকধারীর অনুপ্রবেশের ঘটনার পর থেকেই এই সর্বোচ্চ কড়াকড়ি শুরু হয়। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিশাল অঙ্কের ফেডারেল নিরাপত্তা অনুদান অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই শিরোপার লড়াইয়ে ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা মাথায় রেখে ফেডারেল সংস্থা ও বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত দুই বছর ধরে রোববারের এই বিশেষ ছক তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে ফাইনালকে কেন্দ্র করে আকাশসীমায় জারি করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় একটি ছোট বেসামরিক বিমানকে তাড়া করেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ ফাইটার জেট। উত্তর আমেরিকার মহাকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো প্রথমে ফ্লেয়ার ও আলোক সংকেত দিয়ে পাইলটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরে বিমানটিকে নিষিদ্ধ এলাকা থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়ামের আশপাশে উড়তে থাকা শত শত অবৈধ ড্রোনও জব্দ করেছে এফবিআই। দর্শকদের কিছুটা সাময়িক ভোগান্তি হলেও হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের উপস্থিতির মাধ্যমে এই টুর্নামেন্টটি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয়, নিরাপদ ও সফল বিশ্বকাপ হিসেবে শেষ হতে যাচ্ছে।
টিএইচএ/
