সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিলে মুসলিমদের হেবা (দান) প্রথা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, আল্লাহর কিতাব কুরআনের আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে আইন বানানো সরাসরি শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ) রাজধানী ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলেন শীর্ষ নেতারা।
জরুরি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন (হাটহাজারী), মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী, মাওলানা সালাহউদ্দিন ও মুফতি এনামুল হক কাসেমী।
জাতীয় সংসদে তড়িঘড়ি করে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামিক শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে এ আইন পাস করা হয়েছে, যা কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মুসলিমপ্রধান এ দেশে ইসলামি শরিয়াহবিরোধী যেকোনো আইনই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্র আইন বানাতে পারে, কিন্তু মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের ক্ষেত্রে প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য ছিল।
আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতারা আরও বলেন, নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। আলেম-ওলামারা আইন পড়েছেন কি না—এমন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে, তাদের আপত্তির শরিয়তভিত্তিক যুক্তিসমূহ যাচাই করাই সরকারের দায়িত্ব।
হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় তড়িঘড়ি করে আনা বিতর্কিত বিধানগুলো অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানায় সংগঠনটি। এ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতের এক প্রতিনিধিদল, যেখানে আলেম-ওলামা ও ফিকাহ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিতি থেকে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
