“ইতিহাসের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে বারবার হতাশা নেমে আসে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি সফল সংগ্রামের পরেই দেশ এমন শক্তির হাতে গিয়েছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা কখনোই নিরাপদ নয়। আর এই কারণেই জুলাইয়ের প্রকৃত প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।”
আজ রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর এক মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত “চেতনায় জুলাই” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির, পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
পীর সাহেব চরমোনাই চব্বিশের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, “চব্বিশের সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে রেখেও সাধারণ ছাত্র-জনতার সাথে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলাম। ১৯ জুলাই বায়তুল মোকাররমে ইসলামী যুব আন্দোলনের সমাবেশ ও মিছিলে স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। আমি ও আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেদিন গুলির মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছি এবং তখনই বলেছিলাম—ফ্যাসিবাদের পতন হবেই। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ প্রজন্ম বুক পেতে দিয়েছিল, সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। নিজেদের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য এখন ইসলামকে ক্ষমতায় নেওয়ার বিকল্প নেই; কারণ ইসলামী শরীয়াহর শাসনই প্রকৃত আদর্শ শাসন।”
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব ও অ্যাসিস্টান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসানের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নিয়ে এখন অনেক দলের মধ্যে সুবিধা নেওয়ার নোংরা প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঐক্যমত কমিশনে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির সময় এনসিপি অনেক বিষয়ে বিএনপির পক্ষ নেওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবই চূড়ান্ত করা যায়নি, অথচ পরবর্তীতে তারা বিএনপি বিরোধী শিবিরে যুক্ত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, জুলাই পরবর্তী নির্বাচনে একটি পাতানো খেলা হয়েছে। সংসদে একজন বিএনপি নেতা স্বীকার করেছেন তারা স্রেফ নির্বাচনের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা জাতির সাথে স্পষ্ট প্রতারণা। আমরা অবিলম্বে সংবিধানে জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি, অন্যথায় দেশ ও ইসলামের স্বার্থে আবারও রাজপথে নেমে আসব।”
আলোচনা সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও ভারতীয় দালালরা ওত পেতে আছে। দেশ বাঁচাতে এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও তাদের মধ্যে পতিত স্বৈরাচারের ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তালবাহানা করলে তাদের পরিণতিও স্বৈরাচারের মতোই হবে।” এছাড়া সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে না।
সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান মুজাহিদ অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন, যুব আন্দোলনের দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দীক, বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
টিএইচএ/
