টানা বৃষ্টিতে মরিচ আবাদে ক্ষতি, বাড়তে পারে দাম

by Abid vs36

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চাষিরা। ক্ষেতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মরিচগাছ মারা যেতে শুরু করেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের বাজারেও পড়তে পারে। শিবালয় উপজেলার এলাচিপুরচর, পূর্ব কাফুরিয়া, ছোট বোয়ালী, পশ্চিম কাফুরিয়া ও বড় বোয়ালীসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মরিচক্ষেতে এখনো পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও গাছ হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মরিচগাছ পানি সহ্য করতে না পারায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই মরিচ তুলে ফেলতে হচ্ছে।

শিবালয় উপজেলার ছোট বোয়ালী গ্রামের কৃষক হুমায়ুন মৃধা বলেন, এবার ছয় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। পেঁয়াজ ও রসুনে লোকসান হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার বড় ভরসা ছিল মরিচের ক্ষেত। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি সহ্য করতে না পেরে গাছগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে। সব মরিচ পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ফেলছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, এই জমি থেকে অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা ছিল। এখন সেই সম্ভাবনা প্রায় শেষ। উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে সব পরিশ্রম পানিতে ভেসে গেল। ঋণ করে চাষ করেছি। এই ক্ষতি কীভাবে সামাল দেব, সেটাই বুঝতে পারছি না। হরিরামপুর উপজেলার আরেক কৃষক আরশের আলী বলেন, সংসারের প্রধান আয়ের উৎস ছিল মরিচের চাষ। বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। একই উপজেলার জসিম উদ্দিন জানান, গাছে থাকা মরিচ পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হচ্ছে, না হলে সবই পচে যাবে।

বিজ্ঞাপন
banner

ঝিটকা হাটের আড়তদার কমল সরকার বলেন, মানিকগঞ্জের মরিচের চাহিদা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় এ জেলার মরিচ সাধারণত ভালো দামে বিক্রি হয়। তবে টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, উৎপাদন স্বাভাবিক না থাকলে চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যাবে, যার প্রভাব আগামী দিনে মরিচের বাজারে পড়তে পারে। ফলে খুচরা বাজারে মরিচের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে জেলায় মরিচ, পেঁপে, বেগুন ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের মোট ২২২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক। প্রাথমিক হিসাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে তাদের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এনে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222