সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করতে দেওয়া হয়নি বলেও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে সকাল ১১টায় বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিং গ্রহণ করেন এবং শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের বিজিবি সদস্যরাও এতে যুক্ত ছিলেন।
পুশইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।’ তবে কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হলে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজিবিতে প্রতিবছর নিয়মিত বীরত্বের জন্য পদক দেওয়া হয়। সম্প্রতি পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের জন্য পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।’
’
মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন এবং সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান।
মিয়ানমার সীমান্ত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওপারে চলমান সংঘাত ও মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার। পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবিকে প্রয়োজনীয় মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।
মাদক প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জনবল, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানায় বিজিবির সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
