৩৬ নিউজ ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে বহুবিবাহের বৈধতা, এর পেছনে থাকা কঠোর শর্তাবলী এবং সমাজের কিছু মানুষের অপরিপক্ক আচরণের কারণে দ্বীনের বিধান নিয়ে সৃষ্ট নানা বিভ্রান্তি তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন দেশের জনপ্রিয় আলেম ও ধর্মীয় আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তাঁর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট করেন যে, ইসলাম পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি প্রদান করলেও এর সাথে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কিছু শর্ত যুক্ত করে দিয়েছে। এ সংক্রান্ত মূল শর্তগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রীর সার্বিক ভরণপোষণ, আবাসন ও প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, সকল স্ত্রীর মধ্যে পুরোপুরি ইনসাফ বা সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা ও মানসিকতা থাকতে হবে।
পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে এই প্রখ্যাত আলেম জানান, কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি সামান্যতম এই আশঙ্কা কাজ করে যে একাধিক স্ত্রী থাকলে তিনি কোনো একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়বেন এবং অন্যজনের ওপর বৈষম্য কিংবা জুলুম করবেন, তবে তার জন্য একটির বেশি বিয়ে করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ।
সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ থেকে তিন-চার দশক আগেও সমাজে একাধিক বিয়ের ঘটনা স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো এবং তা নিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা বা বিতর্ক সৃষ্টি হতো না। তবে বর্তমানে কতিপয় মানুষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজজুড়ে এক ধরনের নেতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। এর পাশাপাশি একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইসলামের পবিত্র এই বিধানকে সমাজে হেয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামি বিধানের অবমাননা সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বহুবিবাহের মতো একটি সংবেদনশীল বিধানকে কোনোভাবেই ছেলেখেলা, তামাশা কিংবা ব্যক্তিগত প্রবৃত্তির খাহেশ মেটানোর হাতিয়ারে পরিণত করা যাবে না। যারা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে দায়িত্বহীন আচরণ করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে সমাজ ও নেটিজেনদের কাছে দ্বীনের একটি বিধানকে হাস্যাস্পদ করে তুলছেন। এমন আচরণকারীদের আখেরাতে আল্লাহর দরবারে কঠিন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
বহুবিবাহের মানবিক ও বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামে এই বিধানটি মূলত মানুষের বাস্তব জীবনের নানা অপরিহার্য সংকট দূর করতেই প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেক সময় প্রথম স্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর শারীরিক ও মানসিক সান্নিধ্য দিতে অপারগ হতে পারেন। এমন জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজের চরিত্র ও পবিত্রতা সুরক্ষার স্বার্থে ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের আইনগত সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সমাজকে অনাচার ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
পরিশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার প্রতিটি বিধান মানুষের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে পুরোপুরি আসুক বা না আসুক, তা মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের জন্যই নির্ধারিত। তাই আল্লাহর কোনো স্পষ্ট বিধান নিয়ে মনে বিতৃষ্ণা বা অসন্তোষ লালন করা ঈমানের জন্য চরম বিপজ্জনক। তিনি সকল মুসলিমকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করার উদাত্ত আহ্বান জানান, যেন কারো ব্যক্তিগত ভুল পদক্ষেপ বা অবিবেচকমূলক কাজের সুযোগ নিয়ে কেউ ইসলামি বিধানকে কটাক্ষ করার সুযোগ না পায়।
টিএইচএ/
