আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বহিষ্কৃত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একের পর এক লোমহর্ষক অভিযোগ ও সাক্ষ্য সামনে আসছে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রলার মাঝিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে গভীর রাতে মাঝনদীতে পরিচালিত নৃশংস কিলিং মিশনগুলোর ভয়াবহ চিত্র।
কিলিং মিশনের ভয়াবহ কৌশল
ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মাঝনদীতে চোখ-হাত বাঁধা ব্যক্তিদের হত্যা করা হতো। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, নিখুঁতভাবে নিশানা করতে এবং লক্ষ্যবস্তুর নিশ্চিত মৃত্যু ঘটাতে মাথায় বা বুকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হতো। রক্ত ও মগজ ছিটকে আসা ঠেকাতে কিংবা গুলিবর্ষণের ধরণ গোপন রাখতে নৌকায় বালিশ ব্যবহার এবং ভিকটিমের মাথার টুপি বা যমটুপি সরিয়ে নেওয়ার মতো ঠাণ্ডা মাথার কৌশল প্রয়োগের তথ্য উঠে এসেছে।
লাশ গুম ও প্রমাণের নিশানা মোছা
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর লাশ যেন কোনোভাবেই ভেসে না ওঠে, সে জন্য নেওয়া হতো বিশেষ ব্যবস্থা। প্রত্যক্ষদর্শী মাঝিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিকটিমকে গুলির পর পেটের অংশ চিরে দেওয়া হতো যাতে দেহে গ্যাস জমা না হতে পারে। এরপর মরদেহের সাথে ইট বা সিমেন্টের বস্তা শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে গভীর পানিতে ভাসিয়ে বা ডুবিয়ে দেওয়া হতো। সুন্দরবন সংলগ্ন বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় এমন একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।
বিচারের মুখোমুখি ও আসামির বক্তব্য
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর জিয়াউল আহসানকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বহু গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ট্রাইব্যুনাল গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
