বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই জুলাই আন্দোলনের পটভূমি রচনার প্রধান নায়ক—এমনটাই দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। তারেক রহমান ছিলেন আন্দোলনের প্রেরণাদাতা। তিনি কখনো লন্ডন থেকে বার্তা দিয়ে, কখনো আমাদের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের ছাত্র-জনতার সঙ্গে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আন্দোলনে ছাত্রদলের বহু নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে।”
বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে রিজভী বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—তদন্ত কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন, যদিও এখনো কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা হয়তো রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা কারও স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে দেশ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই দেশে আজ সরকার ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের নামে জাতিকে প্রতিনিয়ত বিভক্ত করে রাখা হয়েছে।”
পুলিশ গুম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ তা প্রত্যাখ্যান করায় তাদের নাম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়। যারা গুমে রাজি হয়নি, তাদের পুরস্কৃত করা উচিত। আর যারা গুম-খুন করেছে, তারা তা করেছে শেখ হাসিনার নৈকট্য পেতে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনার শাসনামলের সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যারা অন্যায় কাজে অংশ নেয়নি, তাদের পুরস্কার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে ১৭৭ জন মানুষের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, সরকারের উচিত তাদের আইনের আওতায় আনা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে দল-মত বা প্রভাব দেখে নয়, অপরাধ দেখে বিচার করতে হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে রিজভীর বার্তা, “মানুষ আইনের শাসন চায়। আপনারা এমন দৃষ্টান্ত রেখে যান, যেন ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার আপনাদের অনুসরণ করে। কেন এখনো এতো হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, চুরি? পুলিশের ওপর আস্থা ফিরছে না কেন? এসব প্রশ্নে সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে।”
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—প্রথমে জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারের অধীনেই স্থানীয় নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে। গত ১৬-১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই জাতীয় নির্বাচনই এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি। উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফউদ্দিন বকুলসহ অনেকে।
হাআমা/
