নেত্রকোনা–১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) সংসদীয় আসনের কলমাকান্দা উপজেলায় সম্প্রতি একটি ন্যায়সঙ্গত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা জাতীয় পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও দুঃখজনকভাবে পরবর্তীতে দেখা যায়—দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাচ্ছে যে, একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই ঘটনার অবিলম্বে সঠিক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক বিহিত দাবি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে আজ ২১ জানুয়ারি, বুধবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফ-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপরোক্ত ঘটনাসহ সার্বিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংকালে মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটছে, যা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নেত্রকোনা–১ ও ফরিদপুর–২ আসনসহ দেশের বহু এলাকায় চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিতভাবে জামিনে মুক্ত করে পুনরায় মাঠে সক্রিয় করা হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা সংঘটিত হচ্ছে। অথচ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পক্ষান্তরে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট কিছু অনলাইন পোর্টালের বিভ্রান্তিকর সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট বৈষম্য এবং নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এছাড়া এলিট শ্রেণীর একটি প্রভাবশালী মহলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ঋণখেলাপির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কৌশলে প্রার্থিতা অনুমোদনের বিষয়টি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলেও প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানায়—ঢাকা–১৩, শরিয়তপুর–১, ফরিদপুর–২ ও ৪, মাদারীপুর–১, গোপালগঞ্জ–২, ময়মনসিংহ–১ ও ২, নেত্রকোনা–১, চট্টগ্রাম–৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫, সিরাজগঞ্জ–৩, নারায়ণগঞ্জ–৪, সিলেট–৩, মৌলভীবাজার–৪সহ সকল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংসদীয় আসনে অবিলম্বে সমন্বিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বডি ক্যামেরাসহ নিরপেক্ষ ও প্রশিক্ষিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং সকল রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে, সমানভাবে ও বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ ফয়সাল এবং দলের প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাওলানা হাসান জুনাইদ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আশা প্রকাশ করে, নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং একটি সন্ত্রাসমুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
হাআমা/
