আফগান সংস্কৃতি ও শরীয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ১ কোটি ইউরো বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই অর্থ দিয়ে আফগানিস্তানে Women’s Economic Empowerment through Local Enterprise Development (WE-LEAD) কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) টোলো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইইউ জানায়, কর্মসূচিটি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং আফগানিস্তানের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো জীবিকায়নের মান উন্নয়ন, আয় সৃষ্টির সুযোগ বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকা শক্তিশালী করা।
ইইউর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রকল্পে সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও শরীয়াহসম্মত আর্থিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবসা উন্নয়ন সহায়তা, মেন্টরশিপ এবং বাজারসংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
নারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ফারিবা নূরী বলেন, ‘নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা—বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য—অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নারী যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হন, তাহলে সংসারে অবদান রাখার জন্য অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নগদ অর্থ বা যন্ত্রপাতি সহায়তা প্রয়োজন।’
কাবুলে ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারী কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা মনে করেন, এই সহায়তা গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা হাজারো আফগান নারীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক দাতাদের পাশাপাশি সরকারকেও নারীদের জন্য টেকসই সুযোগ সৃষ্টি করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
নারী উদ্যোক্তা আসমা শরিফি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নারীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অনেকেরই বিশেষ দক্ষতা ও প্রতিভা রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব রয়েছে। সরকার বা দাতাদের সহযোগিতা পেলে তারা অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন।’
আরেক উদ্যোক্তা জয়নাব বলেন, ‘আমাদের প্রধান প্রয়োজন বিনিয়োগ। অল্প মূলধন পেলেও অনেক কিছু শুরু করা সম্ভব। কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
ইইউ আরও জানিয়েছে, এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ইউএনডিপির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা আফগানিস্তানের কয়েকটি বঞ্চিত প্রদেশে কার্যকর হবে।
এছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার ও মানবিক সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে ইইউ পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের জন্য মোট ১২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে।
অনুবাদ : আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ
হাআমা/
