মোঃ নিজাম উদ্দিন স্বাধীন (স্টাফ রিপোর্টার) : বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার পালাবদল মানেই ব্যক্তিগত ক্ষতির প্রতিশোধ বা সুবিধা পুনরুদ্ধারের তৎপরতা। তবে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজের দখল হওয়া সম্পদ কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সুবিধা পুনরুদ্ধারে প্রভাব খাটাননি। ২০১৭ সালে রবিনের পারিবারিক মালিকানাধীন গণমাধ্যম দৈনিক দেশ জনতা রাজনৈতিক কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দখল করে। দিলকুশায় অবস্থিত কার্যালয় আসবাবপত্র ও মেশিনারিসহ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর সেই কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চাইলে প্রশাসনিক সহায়তা বা দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে দ্রুত দখলমুক্ত করা সম্ভব ছিল। তবে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
শুধু গণমাধ্যম নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন সরকারের সময় শ্যামপুরে অবস্থিত তার মালিকানাধীন আইটিএস সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রভাব খাটালে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা রবিনের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু সে পথেও হাঁটেননি।
অথচ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিক্রি করে দেওয়া গণমাধ্যম দখলের ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়। সংগত কারণে ‘নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়া’ এবং ‘প্রভাব ব্যবহার’ এই দুটি বিষয় নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে।
মহানগরের শীর্ষ নেতা হিসেবে দেশব্যাপী বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপি সব সময় অপপ্রচারের বলি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নাম ভাঙিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ যে অপকর্ম করেছে তা বিএনপির ওপর চাপানো হয়েছে। অথচ প্রভাব খাটিয়ে আমার দখল হওয়া সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা পর্যন্ত করিনি।
রাজনৈতিক কারণে আমার মালিকানাধীন শ্যামপুরের আইটিইএস সিএনজি ও পেট্রোল পাম্পের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, সেটিও প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু আমি তা করিনি। আমি, আমার পরিবার এবং নেতাকর্মীদের পর্যন্ত কোনো অপরাধে জড়াতে দেইনি, এই তথ্য কিন্তু কেউ প্রচার করেনি। অথচ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এখনও করছে। যা খুবই দুঃখজনক।
হাআমা/
