ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তেহরান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে।
ইসলামাবাদ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেজা আমিরি-মোকাদ্দাম সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ কোনো পক্ষেরই উপকারে আসবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এ সংকটের সমাধান হবে।
মোকাদ্দাম বলেন, “অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টা, বিশেষ করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সদিচ্ছাপূর্ণ উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতি আবারও তীব্র হয়েছে।”
ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ইসলামিক এমিরেটের সঙ্গে অব্যাহত সম্পৃক্ততাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
আফগানিস্তানে ইসলামিক এমিরেটই বর্তমান বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেহরান ও ইসলামাবাদ আফগানিস্তান ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে রয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
তিনি বলেন, “তালেবান আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা এবং দেশটিতে ২০ বছরের মার্কিন দখলের ফলাফল। আফগানিস্তান বিষয়ে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত দুই দেশই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।”
এদিকে আফগানিস্তান বিষয়ক পাকিস্তান ও ইরানের বিশেষ প্রতিনিধিরাও ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঈন গুল সামকানাই বলেন, “ইরান ভালোভাবেই জানে, পাকিস্তানের পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এবং পাকিস্তান মূলত মার্কিন স্বার্থ অনুসরণ করছে। এ কারণেই ইরান চায় না আফগানিস্তান অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হোক।”
আফগানিস্তান নিয়ে ইরান ও পাকিস্তানের এই পরামর্শক্রম এমন সময়ে হচ্ছে, যখন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে এবং কাবুল-ইসলামাবাদ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সূত্র: টোলোনিউজ
অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল
হাআমা/
