পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব সামরিকভাবে দেবে আফগানিস্তান

by hsnalmahmud@gmail.com

ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব সামরিকভাবে দেওয়া হবে।

আল আরাবিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, জবাব দেওয়ার পদ্ধতি “গোপন” রাখা হবে, তবে পাকিস্তানের এ ধরনের পদক্ষেপ ক্ষমার অযোগ্য।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের হামলা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ভূমিকা রাখে।

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন: “আমরা চাই আঞ্চলিক ও ইসলামি দেশগুলো এ বিষয়ে তাদের দায়িত্ব অনুধাবন করুক এবং পাকিস্তানকে তার নীতিতে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করুক। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দুটি ঘনিষ্ঠ দেশ, যাদের বহু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করা উচিত এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে দুই দেশ ও পুরো অঞ্চলের ক্ষতি হবে।”

সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর উপস্থিতির অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি বলেন, টিটিপি পাকিস্তানের ভেতরেই বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আফগান ভূখণ্ডের প্রয়োজন নেই।

তার মতে, পাকিস্তান তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এবং কেবল প্রচারণা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন: “দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানের ভেতরে যখনই কোনো হামলা হয়, তারা প্রমাণ ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানকে দায়ী করে। আমরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করছি। আফগান ভূখণ্ড কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না। টিটিপির আফগানিস্তানে উপস্থিতি নেই। এগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তারা নিজেদের দেশেই বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমরা কখনোই কাউকে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেব না।”

সামরিক বিশ্লেষক হাদি কুরেশি বলেন: “আফগানিস্তানে হামলা চালানো, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা এবং বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা সঠিক নয়। টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। পাকিস্তানের উচিত এমন আচরণ করা, যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা তৈরি না হয়।”

মুখপাত্র আরও দাবি করেন, আইএসআইএস দমনের পরিবর্তে পাকিস্তান তাদের “নিরাপদ আশ্রয়” দিয়েছে। তিনি বলেন, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু এলাকায় আইএসআইএসের সদস্যরা অবস্থান করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন: “আইএসআইএস ছিল এমন একটি গোষ্ঠী, যার বিরুদ্ধে আমরা কাবুল ও অন্যান্য প্রদেশে অত্যন্ত কঠোর অভিযান চালিয়েছি। আমরা তাদের নির্মূল করেছি এবং বর্তমানে আফগানিস্তানে তাদের কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তান আইএসআইএস দমনের পরিবর্তে বেলুচিস্তানের মাসতুং এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু এলাকায় তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের আফগানিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পাঠানো হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমদজাই বলেন: “আইএসআইএস মূলত একটি মার্কিন প্রকল্প, যার লক্ষ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা; আর এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

মুজাহিদ আরও বলেন, শনিবার রাতে পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একটি বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে ২২ জন শিশু পড়াশোনা করছিল। এ ঘটনায় একজন শিশু আহত হয়েছে। সূত্র: টোলো নিউজ

অনুবাদ : আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222