ড্রোনের শব্দ থেকে গানে গানে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ

by Masudul Kadir

বিনোদন ডেস্ক : একদিকে ড্রোন বাজছে, সাইরেন বাজছে, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর। যেনো ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদী সুরে গান গেয়েছে ফিলিস্তিনি শিশুরা। গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে এবারের ‘ইউরোভিশন’ গান প্রতিযোগিতা বয়কটের ডাক দিয়েছেন ফিলিস্তিনি সংগীতশিল্পীরা। প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল শুরুর দিনেই ফিলিস্তিনি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে জানান, বিশ্ববাসী যখন এই জমকালো অনুষ্ঠান দেখছে, তখন ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে ইসরায়েল।

‘#VoteJustice4Palestine’ শিরোনামের একটি প্রচারণার অধীনে বয়কটকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাজা সিটিতে আহমেদ আবু আমশার ‘দ্য ড্রোন সং’ গানটি শেয়ার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি একটি লোকসংগীতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা গাজার আকাশে উড়তে থাকা ইসরায়েলি ড্রোনের আওয়াজকে মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রামাল্লায় অবস্থিত ‘এডওয়ার্ড সাইদ ন্যাশনাল কনজারভেটরি অব মিউজিক’-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা এলেনি মুসতাকলেম বলেন, ‘আমরা কয়েক দশক ধরে সাংস্কৃতিক গণহত্যার শিকার হচ্ছি। ৭০ বছরের মধ্যে সবচাইতে বড় বয়কটের ডাকে যুক্ত হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। ফিলিস্তিনে একজন শিল্পী হওয়ার মানে কী, তা আজ বিশ্বের সামনে তুলে ধরা আমাদের কর্তব্য। যারা এ প্রতিযোগিতার চাকচিক্যময় উৎসবের বাইরে গিয়ে সত্যের দিকে তাকাচ্ছেন তাঁদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

গাজা থেকে ভিডিওর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া আহমেদ আবু আমশা বলেন, “শিশুদের নিয়ে আমাদের সংগীতের সেশন চলছিল। হঠাৎ একটি ড্রোন আসার বিকট শব্দে আমরা কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিলাম না। শিশুরা বলল তারা অনুশীলন বন্ধ করে দিতে চায়। আমি তাদের বললাম, ‘কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা এই ড্রোনের শব্দের সাথেই গাইব।’ কল্পনা করুন, ড্রোনের আওয়াজটি মিউজিকের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং আমরা তার সাথে গান গাইছি! যুদ্ধের শব্দকে সুন্দর কিছুতে রূপান্তরিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।” আবু আমশা ফিলিস্তিনে যুদ্ধের কারণে ১৫ বার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি গাজার শিশুদের সংগীতের মাধ্যমে থেরাপি দেওয়ার কাজ করছেন।

এদিকে রামাল্লার ‘পপুলার আর্ট সেন্টার’-এর পরিচালক ইমান হাম্মৌরি অভিযোগ করেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘১৯৪৮ সালের পর থেকে ইসরায়েলি উপনিবেশবাদ ফিলিস্তিনিদের এমন এক জনগোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যাদের কোনো ইতিহাস বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নেই। তারা আজও ফিলিস্তিনি পরিচয় মুছে ফেলার কাজ করে যাচ্ছে। তবে গাজার শিল্পীরা নিজের আত্মপরিচয় ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।’

ফিলিস্তিনি শিল্পীরা জানান, ইউরোভিশনের মতো বড় মঞ্চে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ দেশটির অপরাধ আড়াল করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে শিল্পী ও সাধারণ মানুষকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222