আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। হামলার পর হামলায় লেবাননবাসী দিশেহারা। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে অন্তত আটজন নিহত ও আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রোববার দক্ষিণ লেবাননের তাইর ফেলসাই, তাইর দেব্বা, আজ-জরারিয়াহ ও জেবশিত এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, জুয়াইয়া গ্রামে পৃথক আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের সোহমোর, রুমিন, আল-কুসাইবাহ, কফর হৌনাহ ও নাকৌরা গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হামলা বেড়েছে। তার ভাষ্য, ‘দক্ষিণ লেবাননে আবারও সহিংস একটি দিন কাটছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বদলে ইসরায়েল হামলা আরও জোরদার করেছে।’
রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ‘এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং এমন এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা কৌশলে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছে।’
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১০ জন আহত হয়েছেন।
রোববারের হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়। তবে ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তিও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
কয়েক দশকের মধ্যে গত মাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসে দুই দেশ। যদিও লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
এনএনএর খবরে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। আগামী ২৯ মে এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী ২ ও ৩ জুন ওয়াশিংটনে হতে পারে।
তবে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল এবং কিছু এলাকা দখলে রেখেছে।
হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হুসেইন হাজ হাসসান বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা লেবাননকে ‘একের পর এক ছাড় দেওয়ার’ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ভাষায়, ‘প্রতিরোধ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নে শত্রুপক্ষ যা চায়, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’
শনিবার হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযানের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
