পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে?

by Abid vs36

কোরবানি ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ওয়াজিব ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানেরা প্রতি বছর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে এই মহান ইবাদতটি কবুল হওয়ার জন্য শরিয়তের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও বিধান সুনির্দিষ্টভাবে মেনে চলা আবশ্যক। সামান্য অসচেতনতা বা ভুলের কারণে কোরবানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কোরবানির সময় পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং গোশত কাটার জন্য সাধারণত কসাই বা শ্রমিকদের সহযোগিতা নিতে হয়। কাজ শেষে তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হয়। আমাদের সমাজে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে যে, এই কাজের পারিশ্রমিক বা মজুরি হিসেবে কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ দেওয়া যাবে কি না।

বিজ্ঞাপন
banner

ইসলামি আইন ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, কসাই বা শ্রমিককে তার শ্রমের বিনিময় বা মজুরি হিসেবে কোরবানির গোশত, চামড়া কিংবা পশুর কোনো অংশ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কোরবানির পশু যেহেতু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়, তাই এর কোনো অংশকে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা পারিশ্রমিক পরিশোধের মাধ্যম বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত আলি (রা.) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে কোরবানির পশুর দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কসাইকে পশুর গোশত, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান যে, তাঁরা কসাইকে নিজেদের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে পারিশ্রমিক দিতেন।

তবে ইসলামি বিধানে পারিশ্রমিক এবং উপহার বা হাদিয়াকে দুটি ভিন্ন বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। যদি কসাই বা শ্রমিককে তার কাজের প্রকৃত মজুরি নগদ অর্থে বা অন্য উপায়ে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়, তবে তাকে উপহার হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে গোশতটি কাজের বিনিময় নয়, বরং সাধারণ দান, সৌজন্য বা আপ্যায়ন হিসেবে গণ্য হবে, যা সম্পূর্ণ বৈধ এবং প্রশংসনীয়।

আমাদের সমাজের প্রচলিত একটি ভুল প্রথা হলো, অনেকে কসাইয়ের পুরো পারিশ্রমিকই গোশতের মাধ্যমে শোধ করেন অথবা কম টাকা দিয়ে বাকিটা গোশত দিয়ে পূরণ করেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতিটি সঠিক নয়। ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই কোরবানির কোনো অংশকে কাজের বিনিময় বানানো যাবে না। কসাই বা শ্রমিক দরিদ্র হলে তাকে কোরবানিদাতার পক্ষ থেকে আলাদাভাবে গোশত উপহার দেওয়া উচিত, তবে তা অবশ্যই পারিশ্রমিক পরিশোধের পর হতে হবে।

কোরবানির পশুর গোশতের মধ্যে গরিব ও অসহায় মানুষের হক রয়েছে। ইসলামের পবিত্র এই ইবাদতটি যেন নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত হয়, সেজন্য প্রতিটি মুসলমানের উচিত কোরবানির সঠিক নিয়মগুলো জেনে নেওয়া। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে সুচারুভাবে কোরবানি সম্পন্ন করাই একজন সচেতন মুসলমানের প্রধান কর্তব্য।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222