বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা পেশ করার লক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং রোববার (২৪ মে)বিকেল ৩টায় ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ ৫৯/৩/৩ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিফিংয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং জনকল্যাণমুখী বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ লিখিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ হলেও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া শুধু বাজেটের আকার বৃদ্ধি কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তিনি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক বেকারত্ব, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডিম ও শিশুখাদ্যের উপর শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাস, ওএমএস কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে কৃষকের জন্য সরাসরি ভর্তুকি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়।
তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কর অবকাশ, সুদমুক্ত ঋণ, আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বিশেষ তহবিল এবং প্রতিটি বিভাগে “ডিজিটাল স্কিলস হাব” প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সুদমুক্ত ফাইন্যান্সিং চালুর প্রস্তাব করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত, জেলা হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং জেনেরিক ওষুধ ব্যবহারে বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দের রোডম্যাপ, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং AI-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা চালুর সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুদভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে ইসলামী অর্থায়ন কাঠামো প্রবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ লক্ষ্যে সুকুক বন্ড চালু, সুদমুক্ত SME তহবিল গঠন, ওয়াকফভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন এবং যাকাতদাতাদের করছাড়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয় যে, শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবার ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মাসিক ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সকল শহীদ পরিবারের জন্য ‘জাতীয় শহীদ কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, আমাদের বাজেট প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন খুব সহজ যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। যদি এগুলো ফিরিয়ে আনা যায়, প্রণোদনা-ভর্তুকি দেওয়া খুব সহজ। বাংলাদেশে উন্নয়ন বাজেটের ৫০ পার্সেন্টই দুর্নীতিতে চলে যায়। ৫০ পার্সেন্টের কাজ হয় কিনা তারও সন্দেহ আছে। এজন্য আমরা চাই একটি দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক বন্টনের একটি বাজেট।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মুসা
মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন, প্রকশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ ভূইয়া, আইন সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ যুব মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ প্রমুখ।
হাআমা/
