বর্তমানে আফগানিস্তানের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দেশে চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনকারী কারখানার সংখ্যা ও উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানে ১৩০টি ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা সচল রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ১,১৭০ ধরনের ওষুধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
সম্প্রতি কাবুলে আয়োজিত দ্বিতীয় ‘আবু আলী সিনা বলখী’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। শুক্রবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রদর্শনীর পর্দা নামে, যা দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী নূর জালাল জালালি দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও মান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের ব্যবসায়ী এবং প্রবাসে থাকা আফগান বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতাল ও সাধারণ নাগরিকদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারের অনুরোধ জানাই।”
জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য ও ওষুধ বিষয়ক উপমন্ত্রী হামদুল্লাহ জাহিদ জানান, দেশের নাগরিকদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও নিজস্ব ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রদর্শনীর শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্টল মালিকরা জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিজেদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার পেয়েছেন।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘এই ধরনের প্রদর্শনী সাধারণ মানুষকে এটা জানতে সাহায্য করে যে, স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে আমাদের দেশের সক্ষমতা কতটুকু এবং কী কী পণ্য এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজস্ব কারখানায় ১,১৭০ পদের ওষুধ উৎপাদন আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতকে স্বাবলম্বী করার পথে একটি বড় মাইলফলক।
অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল
হাআমা/
