আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)।
বুধবার (৩ জুন) এই প্রস্তাবটি পাস হয়। ট্রাম্পের ইরান নীতি ও চলমান সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতির বিরুদ্ধে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেমোক্রাটসরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই বারবার ভোটাভুটির উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করা যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ উদ্যোগে ধীরে ধীরে রিপাবলিকান দলেরও আরও বেশি সমর্থন যোগ হয়েছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে ২১৫ এবং বিপক্ষে ২০৮ ভোট পড়ে। ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান দলের চার সদস্য— থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
যুদ্ধের কারণে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারেট বলেন, ‘আমার মনে হয় মানুষ অবশ্যই হতাশ ও বিরক্ত।’
ম্যাসি একজন কেন্টাকির রিপাবলিকান, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনা করে আসছেন ইরানে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে।
তিনি বুধবারের ভোটের পর বলেন, ‘মানুষ এটা নিয়ে ক্লান্ত। তারা প্রতি গ্যালনে ৫ ডলারের গ্যাস এবং ৬ ডলারের ডিজেল নিয়ে ক্লান্ত, আর কেন্টাকির আমাদের জমিতে দেয়ার মতো সারের খরচও আমরা বহন করতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত এই ভোট একটি ভালো বার্তা দেয় যে জনগণের প্রতিনিধি পরিষদ, যা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, এই যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত।’
ফিটজপ্যাট্রিক তার ভোটকে আইন অনুসরণ করার অংশ হিসেবে সমর্থন করেন।
যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত এই প্রস্তাব পাস হওয়া হলো সাম্প্রতিক আরেকটি উদাহরণ, যেখানে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ট্রাম্পের এজেন্ডার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সিনেটের রিপাবলিকানরা একটি বিতর্কিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল নিয়ে বিদ্রোহ করেছেন, যেটি ট্রাম্প সমর্থন করেন। তবে তাদের আশঙ্কা, এটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণকারী ট্রাম্প সমর্থকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
এছাড়া, বুধবার সিনেট রিপাবলিকানরা অভিবাসন সংক্রান্ত একটি প্যাকেজের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের বলরুম নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থও আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছেন।
যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত এই প্রস্তাব পাসের উদ্যোগে যুক্ত থাকা একজন ডেমোক্র্যাটিক হাউস সহকারী সিএনএনকে জানিয়েছেন, তাদের মতে এই প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক হবে এবং এটি একটি আইনি বিষয় হিসেবে পরে নির্ধারণ করতে হবে।
