অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে শ্রমিকেরা, অচলাবস্থা বেনাপোল বন্দরে

by naymur bd1999

৩৬ নিউজ ডেস্ক:: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিকেরা। এতে বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

তবে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বেনাপোল বন্দরে পণ্যজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন
banner

এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) বন্দর শ্রমিক প্রতিনিধিরা বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করেনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগও বজায় রাখা হয়নি। শ্রমের ন্যায্যমূল্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয় না। এসব বিষয় একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।’

শহীদ আলী আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কর্মবিরতির ঘোষণায় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, এই কর্মবিরতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পচনশীল পণ্য ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে আমদানি-রপ্তানি চালু থাকলেও ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো লাভ হবে না। কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হবে। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জহীর রায়হান বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি-সংবলিত আবেদনটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।’

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222