যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের দাবি জানালেও তেহরান তা ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের জন্য ‘খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে। এ বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।
তবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ইতাইবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি আসন্ন কিনা তা মূল্যায়ন করতে হলে এর পেছনে সম্ভাব্য বড় বাধা ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে-কড়া নজর রাখতে হবে।
আল-জাজিরাকে আল-এতাইবি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যা ঘটছে, এই দুই পক্ষ তা পছন্দ করছে না। এই সমঝোতা স্মারকে মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতামত একত্রিত করছেন।’
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয় এখনো এই চুক্তির সম্ভাবনাকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ, উভয় পক্ষই এই পরিস্থিতির এমন একটি রূপ দেখাতে চায় যাতে নিজেদের বিজয়ী মনে হয়, কেউ এটি দেখাতে চায় না যে তারা বাধ্য হয়ে চুক্তিতে রাজি হয়েছে।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। তবে ৮ এপ্রিলের পর থেকে হাতেগোনা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি অনেকটাই থমকে আছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, আর এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা।
হাআমা/
