রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

by Abid vs36

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) বিষয়ে আজ (১ জুন) সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আজকের শুনানিতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত সেই চার্জশিটটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
banner

মামলার বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা নিজের ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার অভিভাবকেরা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তারা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান।

ঘটনার সময় আসামি স্বপ্না আক্তারকে ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন স্বপ্না জানান, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে ভবনে লোকজন জড়ো হওয়ার ঠিক আগেই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর গত ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই সঙ্গে ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বর্তমানে দুই আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222