নিজস্ব প্রতিবেদক :: শেষ পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনের এমপি এম এ মালেক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেশের বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ.-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (৮ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এমপি আব্দুল মালেক বলেন, সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মরহুম আল্লামা গহরপুরী (রহ.)-এর প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চান।
স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, আল্লামা গহরপুরী (রহ.) তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে পবিত্র হজ পালনের সৌভাগ্যও হয়েছিল। তিনি বলেন, মরহুম আলেমের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধর্মীয় অবদান ও ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা অতীতেও ছিল, এখনও রয়েছে। এমনকি নির্বাচনের আগে তিনি একাধিকবার তাঁর কবর জিয়ারত করে দোয়া করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এমপি মালেক আরও বলেন, গহরপুরী পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন রাজু তাঁর আত্মীয় এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং সর্বশেষও টেলিফোনে কথা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মরহুম গহরপুরী হুজুর (রহ.) জীবদ্দশায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ পোষণ করলেও তিনি বর্তমানে একজন মরহুম আলেম হিসেবে সর্বদা তাঁর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র। তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো মন্তব্য করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন এমপি মালেক।
তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যের কারণে যদি গহরপুরী হুজুরের পরিবার, অনুসারী বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে কষ্টের সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবনের আহ্বান জানান এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে সিলেট-৩ আসনের জনগণের উদ্দেশে এমপি মালেক বলেন, তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.)-কে নিয়ে এমপি এম এ মালেকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই সময়ের মধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
