নুর আলম সিদ্দিকী >>
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর গাজা’ সমাবেশ থেকে সময় টিভির লাইভ রিপোর্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন সাংবাদিক ও আলেম মুফতি আবদুল্লাহ তামিম। মূলধারার টেলিভিশন সাংবাদিকতায় দাড়ি-টুপি ও কওমি লেবাসে তার উপস্থাপন স্টাইল এবং বর্ণনায় প্রশংসা করেছেন অনেক নেটিজেন ও সহকর্মী।
শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই সমাবেশে মুফতি আবদুল্লাহ তামিম সময় টিভির হয়ে মাঠ পর্যায় থেকে ধারাবাহিক লাইভ কাভারেজ করেন। তিনি গাজা ইস্যুতে আয়োজিত সমাবেশের প্রেক্ষাপট, অংশগ্রহণকারীদের মনোভাব এবং এর আন্তর্জাতিক প্রভাব অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেন।
রিপোর্টিংয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় প্রশংসার জোয়ার। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে এক ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “এই প্রথম কোনো কওমি আলেমকে বড় পরিসরে টিভি রিপোর্টিং করতে দেখা গেল।”

একজন সিনিয়র সাংবাদিক তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, “সম্ভবত বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতার ইতিহাসে এই প্রথম দাওরায়ে হাদিস পাস একজন আলেমকে হেডফোন পরে রিপোর্টিং করতে দেখলাম। এটা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং একটি শ্রেণির দীর্ঘদিনের অবহেলার জবাব।”
একজন দর্শক ফেসবুকে মন্তব্য করেন, “তামিম ভাই দারুণ করেছেন। আপনি আমাদের গর্ব।” আরেকজন লিখেছেন, “স্মার্টনেস মানে শুধু জ্যাকেট-টাই নয়। দাড়ি-টুপি পরেও সাংবাদিকতা হয়, আজ সেটার প্রমাণ মিলেছে।”
সময় টিভিতে কর্মরত মুফতি আবদুল্লাহ তামিম জানান, “সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, আমার কাছে এটা ঈমানি দায়িত্ব। সত্য ও মানবিকতা তুলে ধরার একটি বড় মাধ্যম এই মিডিয়া। আলহামদুলিল্লাহ, সময় টিভিতে কাজ করতে পেরে গর্বিত।”
তিনি আরও জানান, “নেটিজেনদের ভালোবাসা ও মন্তব্য দেখে খুব অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমি চাই, কওমি অঙ্গনের শিক্ষিত তরুণেরা আরও বেশি করে মূলধারার মিডিয়ায় আসুক, ইসলামের সৌন্দর্য পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরুক।”

আবদুল্লাহ তামিম ৩ মে ১৯৯৭ সালে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পাঠানকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাওলানা মোতাহার হোসাইন। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আবদুল্লাহ তামিমের শিক্ষা জীবন শুরু হয় মাদরাসা থেকে।
তিনি ২০১০ সালে দাখিল, ২০১২ সালে আলিম এবং একই বছর কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি উত্তরার জামিয়া শায়খ জাকারিয়া থেকে ইসলামিক ল’র ওপর ইফতা কোর্স ও ঢাকা মাদারাসা ই আলিয়া থেকে তাফসিরে কামিল সম্পন্ন করেন।
আধুনিক শিক্ষায়ও তিনি পিছিয়ে নেই। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে বিবিএ (অনার্স) অধ্যয়ন করেন।
আবদুল্লাহ তামিমের পেশাগত জীবনও তেমনই বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কুমিল্লার জামিয়া মাদানিয়া রওজাতুল উলুমে। এছাড়াও পাঠদান করেছেন ঢাকা জামিয়াতুস সালাম মদিনাবাগ মাদরাসায়, টিচার্স ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা আইডিয়াল সিটিজেন মাদরাসায়। বর্তমানে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তিনি ঢাকার মারকাজুশ শাইখ আরশাদ আল মাদানীতে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমাম-খতিব ও আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সাংবাদিকতাও তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৭ সালে তিনি ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকার ইংরেজি বিভাগে সহ-সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত হন। এরপর তিনি OurIslam24.com-এ দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তাছাড়া তিনি দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ফাতেহ টোয়েন্টিফোর ডটকম, নবরূপনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.কম-এ সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন। অতঃপর, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি সময় টেলিভিশনে সিনিয়র সহ-সম্পাদক (বিভাগীয় প্রধান) হিসেবে যোগদান করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অনলাইন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম Alfafaa.com-এ বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ আলেম।
এনএ/
