ইরান-যুদ্ধের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। শনিবারের বর্বর হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও সিভিল ডিফেন্স।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার উদ্ধারকারী সংস্থা সিভিল ডিফেন্স জানায়, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা নিহত হন।
সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে জানান, হামলার সময় পরিবারের একমাত্র জীবিত শিশু সদস্যটি বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।
গাজার আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলার পর নিহত পাঁচজনের মরদেহ সেখানে আনা হয়েছে।
এছাড়া গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি জটলার ওপর পৃথক একটি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হন বলে সংস্থাটি জানায়।
গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলায় নিহত এক নারীর মরদেহ হাসপাতালটিতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ জুলাই) গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানায়, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের একটি জটলার ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৮ জন নিহত হন।
স্থানীয় আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলার পর আটজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও ২২ জনকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
হামলায় নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে নিয়মিত বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। সূত্র: এএফপি
