যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। টিকিটের উচ্চমূল্য, ভিসা জটিলতা, রেফারিং বিতর্ক ও তীব্র গরম নিয়ে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নানা আলোচনা থাকলেও মাঠের বাইরের কিছু মুহূর্ত জয় করে নিয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়। ছয় সপ্তাহের এই আসরে ফুটবলের পাশাপাশি মানবিকতা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যেরও দেখা মিলেছে বারবার।
মায়ের সামনে ভোজিনহার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স
কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা, জোসিমার দিয়াস, স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলরক্ষণের নৈপুণ্যে দলকে ০-০ ড্র এনে দেন। তবে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার খরচ বহন করতে না পারায় তার মা মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেয়। পরে মিয়ামিতে মাঠে বসেই ছেলের স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপভোগ করেন তিনি।
লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইনও হয়ে ওঠেন তারকা
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ জিতলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তার তিন বছরের ছোট ভাই কেইন। প্রতিটি ম্যাচ শেষে বড় ভাইয়ের কাছে ছুটে যাওয়া এবং মাঠে তার সরল ও আনন্দময় উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ক্ষুদে উজবেক সমর্থকের কান্না থামালেন কলম্বিয়ার ভক্তরা
কলম্বিয়ার কাছে হারের পর গ্যালারিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে এক ক্ষুদে উজবেক সমর্থক। তাকে সান্ত্বনা দিতে আশপাশের কলম্বিয়ান সমর্থকেরা একসঙ্গে উজবেকিস্তানের নাম ধরে স্লোগান দেন। ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর উজবেকিস্তান ফুটবল দল শিশুটিকে অনুশীলন ক্যাম্পে আমন্ত্রণ জানিয়ে জার্সি ও স্মারক উপহার দেয়।
মেক্সিকোর আনঅফিসিয়াল মাসকট হয়ে ওঠে হাঁস মার্লিন
মেক্সিকোর জার্সি পরা মার্লিন নামের একটি পোষা হাঁস বিশ্বকাপে দর্শকদের নজর কাড়ে। পরে এটি দলটির আনঅফিসিয়াল মাসকটে পরিণত হয়। রাউন্ড অব সিক্সটিনে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও এক মেক্সিকান সমর্থক প্রতিপক্ষের এক ক্ষুদে ইংলিশ ভক্তকে মার্লিনের একটি পুতুল উপহার দিয়ে সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ক্রিসমাস সোয়েটার পরা শিক্ষার্থীর জন্য তারকা ফুটবলারের উপহার
জাতীয় দলের জার্সি না থাকায় মেক্সিকোর এক স্কুলশিক্ষার্থী সান্তি লাল ও সবুজ ক্রিসমাস সোয়েটার পরে জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে আসে। ভিডিওটি দেখে মুগ্ধ হন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো হিমেনেজ। পরে তিনি শিশুটির জন্য নিজের দেশের অফিশিয়াল জার্সি পাঠিয়ে দেন।
জুড বেলিংহামের জন্য গ্যালারিজুড়ে হে জুড
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচের পরই গ্যালারিতে বেজে ওঠে বিটলসের জনপ্রিয় গান হে জুড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও একই দৃশ্য দেখা যায়, যা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
কুরাসাও কোচের চোখের জল ছুঁয়ে যায় বিশ্বকে
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমে জাতীয় সঙ্গীত বাজতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কুরাসাওয়ের ৭৮ বছর বয়সী কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল এবং সবচেয়ে ছোট দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব তার চোখে জল এনে দেয়। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
সূত্র: আলজাজিরা
