আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: চলতি সৌর বছরের প্রথম তিন মাসেই আফগানিস্তানের দেশীয় পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। হেরাত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ৫৩ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি দেশীয় পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানির মূল্য ১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
হেরাত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আমিন জানান, রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল প্রাণিজ পণ্য, তাজা ও শুকনো ফল, কার্পেট, ঔষধি উদ্ভিদ, খনিজসম্পদ এবং অন্যান্য দেশীয় উৎপাদিত সামগ্রী। এসব পণ্য মূলত হেরাত প্রদেশের ইসলাম কালা সীমান্ত এবং তোরঘুন্দি বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানের দেশীয় পণ্য মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়েছে।
আফগানিস্তান জাফরান কনসোর্টিয়ামের প্রধান আব্দুল খালিক খোদাদাদি বলেন, বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন হেরাতের উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে জাফরান ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জাফরান ও হেরাতে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
হেরাত শিল্পপার্ক থেকে এসব রপ্তানির একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। হেরাত চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড মাইনস জানিয়েছে, শিল্পপার্ক থেকে রপ্তানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
হেরাত চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড মাইনসের সভাপতি আব্দুল নাসের আমিন বলেন, শিল্পপার্কে বর্তমানে প্রায় ১১৫টি রপ্তানিমুখী কারখানা কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের একটি বড় অংশের চাহিদা পূরণ করার পর এখন আরও বেশি দেশে আফগান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, উন্নতমানের কারণে আফগানিস্তানের শুকনো ফল, জাফরান, ঔষধি উদ্ভিদ এবং প্রাণিজ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা অর্জন করেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক ক্রেতাকে আকৃষ্ট করছে। জাফরান, শুকনো ফল, ঔষধি গাছ ও প্রাণিজ পণ্যের গুণগত মান ও চাহিদা বাড়ায় এই খাতগুলো ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে আফগানিস্তানের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।
