আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানে তালেবান (ইসলামিক আমিরাত) পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা সহায়তা বিষয়ক এক বিশেষ সভায় এই তথ্য জানান আফগানিস্তানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের (TVET) প্রশাসনিক উপপ্রধান মাওলভী গুলাম সাঈদ এহসাস।
তিনি জানান, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬টি থেকে বাড়িয়ে ৩৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
মাওলভী গুলাম সাঈদ এহসাস বলেন, “সীমাবদ্ধ সম্পদ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে পুনর্বাসিত ও আত্মনির্ভরশীল করতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের শিক্ষা ও দক্ষতার ওপর এখন পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য: গত কয়েক দশকের যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আফগানিস্তানে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষপর্যায়ে রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কোনো না কোনোভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তালেবান প্রশাসন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। ৩৬টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বর্তমানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শ্রবণপ্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য হস্তশিল্প, কম্পিউটার শিক্ষা, সেলাই এবং কারিগরি বিষয়সহ নানা ধরনের বৃত্তিমূলক কোর্স চালু রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা সম্প্রসারণের এই উদ্যোগকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর মান ধরে রাখা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের টেকসই মানবিক ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।
