আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কের প্রসার ঘটছে বলে জানিয়েছেন তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের (ইসলামিক আমিরাত) প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন আফগানিস্তানের প্রধান অগ্রাধিকার।
কান্দাহার থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আমরা সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক চাই। তবে আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত।”
আফগান ভূখণ্ডকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে মুখপাত্র বলেন, “আফগানিস্তান নিশ্চিত করছে যে এই ভূখণ্ড কারো বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমাদের কৌশল পুরোপুরি অর্থনীতি ও সংযোগ-কেন্দ্রিক।”
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তালেবান মুখপাত্র জানান, বর্তমানে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শতভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তথাকথিত কাল্পনিক রেখা (ডুরান্ড লাইন) কিংবা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক সীমান্তে কোনো সংকট নেই।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এ বিষয়ে দেশবাসীর উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করে চলেছে।”
এদিকে বিশ্ব দরবারে আফগানিস্তানের অবস্থান নিয়ে আফগান রাজনৈতিক বিশ্লেষক আজিজ মারিজ ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে কিছু বিষয়ে নমনীয়তা ও পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, মেয়েদের শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো গঠন জরুরি। এসব শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণেই বিশ্ব সম্প্রদায় এখনো ইসলামিক আমিরাতকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিচ্ছে না।”
উল্লেখযোগ্য যে, তালেবান আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর শাসনব্যবস্থার পঞ্চম বর্ষপূর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দেশের সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ—বিশেষ করে রাশিয়া ছাড়া আর কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
