খাল খনন শেষে ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

by hsnalmahmud@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন
banner

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। এ অর্থে মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পরে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মান ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিবিড় তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও দবির উদ্দিন একাধিকবার সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।

প্রায় তিন মাস ধরে চলা পুনঃখননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ভাড়া, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ পরিশোধ করা হয়। সব ব্যয় মিটিয়ে প্রকল্পে ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা অবশিষ্ট থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সালথা উপজেলার বাসিন্দা আরমান মাতুব্বর বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। ইউএনও দবির উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. আছাদ মাতুব্বর বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দ প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222