আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মসজিদ, মাদ্রাসা, দরগাহ ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় ও আবাসিক স্থাপনার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের চলমান বিতর্কিত বুলডোজার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার (১৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের এক বিশেষ অন্তর্বর্তী আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনাতেই কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা ভাঙচুরমূলক অভিযান চালানো যাবে না।
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত আবেদনকারীদের রাজস্থান হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চে আইনি আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজস্থান হাইকোর্টে বিষয়টির চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত ওই সম্পত্তিগুলোতে কোনো ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
প্রশাসন কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নাগরিকদের পক্ষে ভারতের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে এই স্থগিতাদেশের আবেদন করে। শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, রাজস্থানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে মসজিদ, মাদ্রাসা, দরগাহ ও সাধারণ মানুষের আবাসিক বাড়িঘর লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বেআইনি বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে আদালতের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রয়োজন। আবেদনকারীদের এই জোরালো যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত সাময়িকভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ জারি করেন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রাজস্থান হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এই মানবিক ও ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী আদেশকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী। এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিক, পবিত্র মসজিদ, মাদ্রাসা, দরগাহ এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও আবাসিক স্থাপনার সুরক্ষায় আমাদের সংগঠনের আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।” মাওলানা মাহমুদ মাদানী গভীর আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতেই এই বিরোধের একটি ন্যায়সংগত সমাধান আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম মানুষের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হবে।
টিএইচএ/
