৩৬ নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে নরওয়ের। তবে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্ক্যান্ডিনেভীয় এই দেশটি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে শক্তিশালী রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে যে, কেবল গ্যালারির স্লোগান বা বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফিফা ও উয়েফার মতো প্রতিষ্ঠানে জোর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করতে চাইছে নরওয়ে।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নরওয়ের এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছরের অক্টোবরে অসলোতে অনুষ্ঠিত একটি বাছাইপর্বের ম্যাচ থেকে অর্জিত পুরো অর্থ গাজায় ত্রাণ সহায়তার জন্য দান করার ঘোষণা দেয় নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। ওই ম্যাচে গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পতাকা, কেফিয়ার সাথে ঐতিহ্যবাহী ভাইকিং টুপি এবং শিশুদের সুরক্ষার বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। এমনকি ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় গ্যালারি থেকে দুয়ো ধ্বনিও শোনা যায়। তবে কেবল মাঠের প্রথাগত প্রতিবাদেই আটকে থাকেনি তারা, তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা।
নরওয়ের এই কূটনৈতিক অবস্থান তাদের ঐতিহাসিক বৈশ্বিক ভূমিকার সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর দশকের বিশ্বখ্যাত ‘অসলো চুক্তি’ মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল দেশটি। কিন্তু পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত দখলদারিত্বের কারণে নরওয়ে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে। বর্তমানে দেশটির ফুটবল নীতি নির্ধারকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, ইউক্রেনে সামরিক আক্রমণের কারণে যদি রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ করা যায়, তবে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ করা উচিত। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের যে দাবি জানিয়েছিল, সেখানে নরওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন এই আন্দোলনকে ফুটবলের মূলধারায় নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক তারকা ফুটবলার লিস ক্লাভেনেজ। পেশায় আইনজীবী এবং উয়েফা কার্যনির্বাহী কমিটির এই সদস্য এর আগেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মানবাধিকার প্রশ্নে ফিফা কংগ্রেসে সোচ্চার ছিলেন। অন্যদিকে দেশের তারকা ফুটবলাররাও এই বিষয়ে সোচ্চার। জাতীয় দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড গাজার মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বমঞ্চে একাধিকবার নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
টিএইচএ/
