৩৬নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ১৪ জুলাই ছিল বিশেষ ভূমিকা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিন শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বিতর্কিত মন্তব্য আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারাদেশে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা ব্যবস্থা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা সুবিধা না পেলে রাজাকারের নাতি-নাতনিরা পাবে কি না। তার এই মন্তব্যকে নিজেদের প্রতি অপমান হিসেবে দেখে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ এবং ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাবির রাজু ভাস্কর্য ও বিভিন্ন হলের আঙিনা। একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসেন, যা মূলত শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এক অনমনীয় প্রতিরোধের সূচনা করে।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে হাজারো শিক্ষার্থী বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। পথিমধ্যে পুলিশি ব্যারিকেড ও জলকামানের মুখোমুখি হলেও তা ভেঙে তারা জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে এগোতে থাকেন। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে কোটা সংস্কারের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। এতে সকল গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে জরুরি সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে আইন পাসের দাবি জানানো হয়।
এদিকে ১৪ জুলাই রাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর ছাত্রলীগ ও পুলিশের নজরদারি বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে অন্তত পাঁচজন আহত হন। দিনটি কেবল কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানের দিকে চালিত করেনি, বরং ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এক স্মরণীয় স্ফুলিঙ্গ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
টিএইচএ/
