আফগানিস্তানের বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করা এবং নাগরিকদের আর্থিক বোঝা লাঘবের লক্ষ্যে ৪টি খাতে বড় ধরনের কর ছাড় বা শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামিক এমিরেট অফ আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা।
নতুন এই কর সুবিধাগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদনের পর এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরেন তালেবান সরকারের প্রশাসনিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফি। তিনি জানান, আইনি প্রতিষ্ঠানসমূহ, ব্যক্তিগত করদাতা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির মতো প্রধান ৪টি ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খনি খাত ব্যতীত আফগানিস্তানের সমস্ত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও বেসরকারী হাসপাতালের ওপর আরোপ করা পূর্বের ২০ শতাংশ আয়কর কমিয়ে একলাফে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রে বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা পূর্বের ৬০ হাজার আফগানি (আফগান মুদ্রা) থেকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে ১ লাখ ২০ হাজার আফগানি করা হয়েছে। ফলে যেসব নাগরিকের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২০ হাজার আফগানির নিচে, তাদের এখন থেকে কোনো আয়কর দিতে হবে না।
এ ছাড়া জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর শুল্ক প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ আফগানি থেকে কমিয়ে ৫০ আফগানিতে আনা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর করের হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তালেবান সরকারের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসের আখুন্দ জানান, ইসলামিক এমিরেট রাষ্ট্রক্ষমতায় পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৩টি কর ছাড়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নাগরিকদের দেওয়া করের অর্থ দিয়েই আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি প্রশাসনিক পরিচালন ব্যয় মেটানো হচ্ছে।
একই আয়োজনে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নুরুদ্দিন আজিজি আফগান ব্যবসায়ী সমাজ ও বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের কর ফাঁকি না দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে সময়মতো কর পরিশোধ করার তাগিদ দেন। আফগান নীতিনির্ধারকদের মতে, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতিকে টেকসই শক্তির ওপর দাঁড় করাতেই এই ছাড় দেওয়া হলো।
টিএইচএ/
