আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২২ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
রোববার (১২ জুলাই) স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর থেকে গাজা শহর ও আল বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় এক শিশুসহ ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর পাশাপাশি গাজা শহরের দক্ষিণ অংশের আস-সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই ধরনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ৩ হাজার ৫৩৫ জন আহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরের খলিল (হেবরন) জেলার মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলের হুওয়ারা গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক প্রবীণ ব্যক্তি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল-জাবুর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জমি ও বাড়ির কাছে থাকা অবস্থায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়, শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং চোখে মরিচের গুঁড়া বা পেপার স্প্রে ছিটায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, গবাদিপশু চরানোর সময় ইব্রাহিম আল-জাবুর নামের এক বৃদ্ধের চোখে সরাসরি পেপার স্প্রে ছিটিয়ে দেয় এক সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী।
ফিলিস্তিনি ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ৩ হাজার ৪৮৮টি সহিংস হামলা চালিয়েছে। এসবের মধ্যে বসতি জ্বালিয়ে দেওয়া, যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া, সরাসরি গুলি চালানো ও জমি দখলের মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই দিনে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২২ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দি তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, তুলকারেম থেকে বাবা ও ছেলেসহ ৮ জন, নাবলুস থেকে একজন পিতা ও তাঁর দুই ছেলেসহ ৭ জন, হেবরন ও জেরুজালেম থেকে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের চরম অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
