টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের ৭টি জেলায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণহানি বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চরম দুর্ভোগের মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের ৭টি জেলা— চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা এলাকা বর্তমানে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলাভিত্তিক হিসেবে প্রাণহানির তালিকায় সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৮ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন।
পানিবন্দি মানুষের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা সবচেয়ে বেশি সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন, যেখানে মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংকটে রয়েছে কক্সবাজার, সেখানে পানিবন্দি অবস্থায় ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবারের ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
দুর্গত এলাকার মানুষের জরুরি সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানোর অংশ হিসেবে গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত সাত জেলার জন্য নগদ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
টিএইচএ/
