৩৬ নিউজ ডেস্ক: বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে প্রধান ভূমিকা ও দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষতির মাত্রা এতোটাই মারাত্মক যে রাষ্ট্র সরাসরি এগিয়ে না এলে এসব মানুষের পক্ষে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর দুর্যোগকবলিত পশ্চিম চাম্বল ইউনিয়নের ডিপুটি ঘোনা এলাকায় বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ দিন তিনি বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকা ঘুরে দেখেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের কাছে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেন।
বন্যাদুর্গত এলাকার সার্বিক অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব। তিনি বলেন, বহু পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাদের নতুন করে সংসার গোছাতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। তাই বন্যা পরবর্তী এই পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারকে সর্বোচ্চ সক্রিয় ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, কেবল সাময়িক ত্রাণ বিতরণ কিংবা পুনর্বাসনই শেষ কথা নয়। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও ভাটির দেশ হওয়ায় বন্যা আসবেই। তবে এই ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি, নদী ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোকেও জলবায়ু ও বন্যার বাস্তবতাকে মাথায় রেখে সাজানোর আহ্বান জানান তিনি।
ত্রাণ বিতরণকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা মুজাহিদ সগীর আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
টিএইচএ/
