আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতে মাওবাদীদের নিঃশেষ করতে গত এক বছর ধরে দিল্লি সরকার নিরন্তর অভিযান চালিয়ে মাওবাদী সংগঠনের প্রায় সব শীর্ষ নেতা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হয় নিহত হয়েছেন বা গ্রেফতার হয়েছেন। এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন কয়েক শত মাওবাদী কমান্ডার ও ক্যাডার। তবে দলের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা জঙ্গলে আত্মগোপনে ছিলেন। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল এক কোটি রুপি।
শেষমেশ মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী এই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুই কমান্ডার। মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে এটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদের পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে।N
মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গেলে পুলিশ তাকে সঙ্গীসহ ধরে ফেলে।
২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিসিরকে। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে এক মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় আদালত চত্বরে অতর্কিতে হামলা চালায় মাওবাদীরা। পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এই মাও নেতাকে। মিসির বেসরা তার আসল নাম হলেও দলে ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত ছিলেন।দেশের সংকটে রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় জাতিকে দিকনির্দেশনা দেবে জমিয়ত
সিলেট প্রতিনিধি : বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-কে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, কার্যকর ও জনমুখী নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগরের তরুণ উলামায়ে কেরাম।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে নগরীর বন্দরবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে সিলেট মহানগর জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উদ্যোগে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক কাফেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। বিশেষ করে জাতীয় জীবনের প্রতিটি সংকটে দলটি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে—এমন প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।
তারা আরও বলেন, সময়ের প্রয়োজনে জমিয়ত বিভিন্ন খাতে পৃথক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ১০৭ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে সংগঠনটি বহু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা, জমিয়ত জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা নিজাম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন সিয়ানা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুফতি জিয়াউর রহমান, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা এহতেশামুল হক কাসিমী, মুফতি নোমান বিন কাসেমী, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন প্রথমপাশী, মাওলানা লুকমান হাকিম, মাওলানা মাহফুজ বিন আব্দুল হাফিজ, মাওলানা আব্দুল্লাহ সালমান, মাওলানা মাসুম আল মাহদী, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা হাসান বিন ফাহিম, মাওলানা নুমান সিদ্দীক ও মাওলানা খলিল উল্লাহসহ বিভিন্ন স্তরের তরুণ আলেম ও সংগঠকরা।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুকতার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আখতারুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা অলিউল্লাহ, ছাত্র জমিয়ত সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফা সাদী, শাহপরান থানা ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মীর আইনুল হকসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
