দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণসহ একাধিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
জানা যায়, সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার। নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন।
বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে প্রবেশ করবেন। পরে সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে যাবেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। জাতীয় সংগীত ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।
শপথ নেয়ার পর বঙ্গভবনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার পাশাপাশি আসনে বসবেন। স্বাক্ষর শেষ হলে রাষ্ট্রপতি মাঝের চেয়ারে বসবেন। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে আবার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। পরে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথের পর মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তাদের মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। শপথ অনুষ্ঠানের জন্য তাদের গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এরপর বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
