হাসান আল মাহমুদ >>
দক্ষিণ কোরিয়ার আনসান শহরের ঐতিহাসিক আনসান মসজিদে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম হলো আজ। প্রবাসী আলেম ও স্কলার মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমীর হাত ধরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এক কোরিয়ান তরুণী।
তরুণীর ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী ৩৬ নিউজকে জানান, ২৬ বছর বয়সী Jin Yihyun (জিন ই-হিউন) নামের এই তরুণী হৃদয়ের গভীর টান থেকে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নেন। তিনি শাহাদাত পাঠ করে ঘোষণা করেন—“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”—এই পবিত্র বাক্যই তাঁর জীবনে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে।
তিনি জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয় হানা (هناء), যার অর্থ—সুখ, প্রশান্তি ও হৃদয়ের শান্তিময়তা।
জানা গেছে, হানা একজন আলজেরিয়ান মুসলিম যুবককে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে তাঁর ইসলাম গ্রহণের পেছনে শুধুমাত্র বৈবাহিক সম্পর্ক নয়, বরং ইসলামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সত্যের সন্ধানই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হানাকে কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত একটি পবিত্র কুরআন শরীফ উপহার দেওয়া হয়, যাতে তিনি ইসলামের শিক্ষা ও আলোকে নিজের জীবনের পথচলা শুরু করতে পারেন।
বিশেষ এই ঘটনার সাক্ষী থাকা মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে তাঁর জন্য দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী। একজন মেধাবী আলেম। জন্ম মাগুরায় ১৯৮৬ সনে। পড়ালেখার হাতেখড়ি যশোর শহরে। ১৯৯৯ সালে জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকায় ভর্তি হন। ওখানে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে ২০০৪ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে ফের দাওরায়ে হাদিস পড়েন। সেখানে দাওরায়ে হাদিসের ভর্তি পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা এবং ইফতার বছর সমাপনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০০৬ এর শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরে প্রথমে তাবলীগে সময় দেন। তারপর ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত মিফতাহুল উলুম মধ্য বাড্ডা মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসাবে খেদমত করেন। তারপর ২০১০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত জামিয়া ইকরা বাংলাদেশে সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসাবে খেদমত করেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি পাড়ি জমান প্রাচ্যের সাউথ কোরিয়ায়। সেখানে ‘আনসান মসজিদ এন্ড ইসলামিক সেন্টার’ এ তিনি ইমাম ও খতিব হিসাবে খেদমতরত।
হাআমা/
