চিফ রিপোর্টার:: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক আলেমকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর নেপথ্যে সুপরিকল্পিত অপহরণ, মারধর ও ব্ল্যাকমেইলের এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ওই আলেমকে অপহরণ করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণের মাধ্যমে এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম আইয়ূবী নিজেই এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। একই সাথে ইসলামী চিন্তাবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রুহুল আমিন সাদী তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনার পেছনের সত্যতা উন্মোচন করেছেন।
পার্সেল আনতে গিয়ে অপহরণের শিকার
ঘটনাটি ঘটে রমজানের ঈদের মাত্র তিন দিন পর। মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম আইয়ূবী ৩৬ নিউজকে জানান, গ্রাম থেকে বাসে আসা একটি পার্সেল নেওয়ার জন্য তিনি এশার নামাজ শেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখানে পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাত পরিচয় ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী চক্র তাঁকে জোরপূর্বক তুলে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়।
বিবস্ত্র করে সাজানো ভিডিও ও মুক্তিপণ দাবি
আস্তানায় নেওয়ার পর ওই আলেমের ওপর তীব্র শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
রুহুল আমিন সাদী তাঁর অনুসন্ধানী পোস্টে জানান, জিম্মি অবস্থায় চক্রের এক পুরুষ সদস্যকে জোরপূর্বক বোরকা পরিয়ে ওই আলেমের পাশে বসানো হয়। এরপর আলেমকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়, যেন এটিকে একটি অনৈতিক কাজের দৃশ্য হিসেবে চালানো যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আলেম তাঁর পরিচিতজনদের মাধ্যমে বিকাশ ও অন্যান্য উপায়ে ১০ হাজার টাকা এনে দিলে রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে থলের বিড়াল: বোরকা পরা ব্যক্তি আসলে পুরুষ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভিডিওতে আলেমের পাশে বোরকা পরে বসে থাকা ব্যক্তি কোনো নারী নন। তিনি মূলত গোঁফ ও দাড়িওয়ালা একজন পুরুষ (খালা মিয়া), যার কণ্ঠস্বরও ছিল পুরুষালি। এছাড়া ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডের শব্দে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে যে, অনৈতিক কাজের কোনো বিষয় নয়, বরং হুজুরকে কোথাও থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আলেম সমাজকে কলঙ্কিত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রুহুল আমিন সাদী বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেল কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করেই এই সাজানো এবং দুই মাস পুরোনো ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাল করেছে। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আলেম সমাজ ও মাদ্রাসাশিক্ষাকে কলঙ্কিত করে তাদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সুদূরপ্রসারী নোংরা ষড়যন্ত্রের অংশ।
আইনি পদক্ষেপ ও ভুক্তভোগীর আকুতি
ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার পর মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম আইয়ূবী ৩৬ নিউজকে জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত থাকার পর হঠাৎ অনলাইনে ভিডিওটি দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘সেই জানোয়ারের বাচ্চাগুলি আমাকে অত্যাচার করে টাকা-পয়সাও নিল, আবার ওই ভিডিওগুলি অনলাইনে ছেড়ে দিল। আমি অনেক বড় বিপদের মধ্যে আছি।’
ইতোমধ্যেই তিনি এই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানাতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং অপরাধী চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সাথে এই কঠিন মুসিবত থেকে বাঁচতে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
হাআমা/
