ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে পুনরায় বাসযোগ্য ও উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ ধাপের পাঁচ বছর মেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এক্সপ্রেস নিউজ সূত্রে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোস্তফা জাতিসংঘ ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, এই পরিকল্পনাটি বাসস্থান, শিক্ষা, প্রশাসনসহ মোট ১৮টি খাত নিয়ে গঠিত, যার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে গাজায় পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:
প্রকল্পটি ৩ ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং মোট ৫ বছর মেয়াদি সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুনর্গঠনের আওতায় থাকবে বাসস্থান, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, পানি, কর্মসংস্থান এবং শাসনব্যবস্থা।
মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে যৌথ পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাস্টমস ও সমন্বিত পুলিশিং বিষয়ে কারিগরি আলোচনাও চলছে।
এর লক্ষ্য হলো, গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঐক্য পুনঃস্থাপন এবং ভবিষ্যতে একটি বিশ্বাসযোগ্য ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথ সুগম করা।
বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ
তবে রাজনৈতিক ও বাস্তব পরিস্থিতি এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে স্পষ্ট নয় যে, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে, বিশেষত যখন ইসরায়েলি নেতৃত্ব পরিকল্পনার কয়েকটি দিক নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।
অন্যদিকে, হামাস ও ইসরায়েল এখনো মৃতদেহ বিনিময় ইস্যুতে পরস্পরকে দায়ী করছে। হামাস এখন পর্যন্ত কিছু লাশ হস্তান্তর করেছে, তবে বহু লাশ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকায় উদ্ধার কঠিন হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুনর্গঠনের কাজকে জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি হামাস গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হত্যা ও সহিংসতা চালিয়ে যায়, তবে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা’ নেওয়া হতে পারে। এই বক্তব্যে অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন, অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন, এবং তারা এই বিষয়ে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য বৈশ্বিক অংশীদারদের সহযোগিতা কামনা করছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস নিউজ।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
