মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে আবারও বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার নৌবাহিনীর প্রধান বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর এই কোপ পড়ল। পেন্টাগন থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ফেলানের বিদায়ের কথা জানানো হলেও সেখানে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি; শুধু বলা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, মূলত রণতরি নির্মাণে গতি আনার ক্ষেত্রে শ্লথগতি এবং পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই বরখাস্ত হয়েছেন ফেলান। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, উপসচিব স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাও-এর সঙ্গে ফেলানের সম্পর্ক তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বর্তমানে হাং কাও-কেই ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফেলানের দফতরের বিরুদ্ধে একটি নৈতিকতা লঙ্ঘনের তদন্তও এই নাটকীয় অপসারণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিলিয়নেয়ার জন ফেলান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমান মেয়াদে তিনিই প্রথম ট্রাম্প মনোনীত কোনো সার্ভিস সেক্রেটারি যিনি চাকরি হারালেন।
পেন্টাগনে এই মুহূর্তে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা চলছে। হেগসেথের অধীনে এর আগে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউন এবং সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জকেও কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হেগসেথের অধীনে প্রতিরক্ষা দফতর অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সমালোচকরা মনে করছেন, যুদ্ধের মতো নাজুক পরিস্থিতিতে বারবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই রদবদল এমন একসময়ে ঘটল যখন ইরানের সঙ্গে একটি থমথমে যুদ্ধবিরতি চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নৌ-অবরোধের ওপর নির্ভর করছেন। পাশাপাশি চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তির মোকাবিলায় মার্কিন নৌবহর সম্প্রসারণের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে প্রশাসনের ওপর।
২০২৭ অর্থবছরের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে নৌবাহিনীর জন্য যে বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়নই এখন নতুন নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: রয়টার্স
হাআমা/
