মার্কিন সামরিক বাহিনী এশীয় জলসীমায় (ভারত মহাসাগর অঞ্চলে) ইরানের পতাকাবাহী অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে এবং সেগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে কয়েকটি জাহাজে গুলি চালিয়ে আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস পরও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়েছে, যা একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ ও একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে।
আটককৃত জাহাজগুলো হলো-
ডিপ সি সুপারট্যাঙ্কার: ইরানের পতাকাবাহী এই জাহাজটি আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বোঝাই ছিল। এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে এর ট্র্যাকিং দেখা গিয়েছিল।
সেভিন: ছোট এই ইরানি ট্যাংকারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল। এটি ৬৫% ক্ষমতায় তেল বহন করছিল। এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে শেষবার দেখা গিয়েছিল।
ডোরেনা সুপারট্যাঙ্কার: এটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই অবস্থায় আটক হয়েছে। তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারতের উপকূলে এর অবস্থান দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টার পর ডোরেনা জাহাজটি ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি ইরানি ট্যাংকারও আটক করেছে। রোববার ইরানি তেল ক্রয়ের ওপর মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটি ভারতে তেল খালাস করতে ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে এর শেষ অবস্থান দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার জানিয়েছে, ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা বন্দর ত্যাগকারী জাহাজের ওপর অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ২৯টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিতে বা ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আটককৃত সব জাহাজের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেনি। আটকের বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
এই ঘটনা ইরান-মার্কিন উত্তেজনাকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য ও একাধিক সূত্র রয়টার্সকে এই খবর নিশ্চিত করেছে।
হাআমা/
