এক তুর্কি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ AFAD এর একটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে মিশর সীমান্তে অবস্থান করছে এবং গাজায় প্রবেশ করে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ৮১ সদস্যের দলটি বিশেষ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সরঞ্জাম, জীবন শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর নিয়ে প্রস্তুত আছে। দলের সদস্যরা ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা বা মৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ করবেন।
কর্মকর্তা জানান, ‘এখনও পরিষ্কার নয় ইসরায়েল তুর্কি দলটিকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি কবে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল কাতারি উদ্ধার দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে আমরা আশা করছি আমাদের দলকেও দ্রুত অনুমতি দেওয়া হবে।’
হামাসের এক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রবিবারের মধ্যে তুর্কি প্রতিনিধি দলটির গাজায় প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
AFAD কর্মকর্তারা কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তারা অতীতেও বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্প, যেখানে ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তুর্কি কর্মকর্তা জানান, দলটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় পক্ষের মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ, যার মধ্যে এমন ইসরায়েলি জিম্মিরাও থাকতে পারেন যারা ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন, উদ্ধার অভিযানটি জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ কিছু ইসরায়েলি জিম্মি স্থানীয় পোশাকে আড়াল হতে পারেন ড্রোনের নজর এড়াতে। ‘এই পরিস্থিতি অনুসন্ধান কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলবে এবং অগ্রগতিতে বিলম্ব ঘটাতে পারে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে, কিছু বিশ্লেষক তুর্কি দলের ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, হামাস এসব যন্ত্রপাতি ভূগর্ভস্থ টানেলে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করতে পারে।
সূত্র: টিআরটি গ্লোবাল।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
