ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে জমায়েত হতে শুরু করেছেন বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কনকনে শীত উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত থেকেই অনেকেই পূর্বাচলে অবস্থান করছেন। কেউ এসেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে, আবার কেউ ঢাকার বাসিন্দা।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই এই প্রত্যাবর্তনকে আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের বিপুল জনসমাগম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিএনপি শৃঙ্খলা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাগত মিছিল এবং প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নিতে পারে।
যদিও তারেক রহমান নিজে বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন, তবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে যাত্রাপথে কুড়িল-পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (দলীয়ভাবে পরিচিত ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’) এলাকায় সংক্ষিপ্ত গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে অল্প সময়ের বক্তব্য রাখবেন।
রাজধানীজুড়ে প্রায় ৯০০টি মাইক স্থাপন করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর, বিশ্বরোড, বনানী, মহাখালী, যমুনা ফিউচার পার্ক হয়ে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এসব মাইক বসানো হবে। পুরো আয়োজন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হচ্ছে।
সংবর্ধনাস্থলের বাইরেও নেতাকর্মীদের ভিড় ৩০০ ফিট সড়ক ছাড়িয়ে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে উত্তরা-বনানী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি।
এছাড়াও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩০টি মোবাইল মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর ও পূর্বাচল এলাকার আশপাশের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
টিএইচএ/
