দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান।
চীনের সহযোগিতায় নির্মিত এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি এখন শুধু পাকিস্তানের নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও হয়ে উঠেছে এক সম্ভাবনাময় গেমচেঞ্জার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— এই যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নামও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হওয়ায় জেএফ–১৭-এর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে একাধিক উন্নয়নশীল দেশ।
এর মধ্যে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
জেএফ–১৭ থান্ডার মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান।
বর্তমানে পাকিস্তান নিজ দেশেই এটি উৎপাদন করছে এবং নিজেদের বিমানবাহিনীতে সফলভাবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, আধুনিক রাডার ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং বহুমুখী অভিযানের সুবিধাই এই যুদ্ধবিমানকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
চীনের দীর্ঘ যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই জেএফ–১৭ তৈরি।
রাশিয়ার সুখোই–৩৫সহ আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত ধারণা ব্যবহার করে এটিকে আরও কার্যকর করে তোলা হয়েছে।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে জেএফ–১৭ আরব দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে বাজারজাত করছে।
এমনকি সৌদি আরবও ঋণের বিনিময়ে এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ধাপে ধাপে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে— আর জেএফ–১৭ সেখানে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের নিজস্ব তেজস যুদ্ধবিমান প্রকল্প এখনও নানা সীমাবদ্ধতায় আটকে রয়েছে। চার দশক পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কোয়াড্রন মোতায়েন করতে পারেনি নয়াদিল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই পাকিস্তান কৌশলগতভাবে এগিয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়— জেএফ–১৭ এখন শুধু পাকিস্তানের সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
আর সেই গেমচেঞ্জার যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার পথে বাংলাদেশও— যা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এনএ/
